ফেয়ারওয়েল জিলা স্কুল…

৬ জানুয়ারি, ২০১০ থেকে ১৫ মার্চ ২০১৬(অফিসিয়ালি যদিও ১০ মে) ছয়টা বছরের থেকে কিছু বেশী সময়।

স্কুলের এত বড় মাঠ দেখে প্রথম বুকে ধাক্কা লাগা, নিজেকে মানিয়ে নেয়ার হাজারো চেষ্টা, তারপর মানিয়ে নেয়া।

এরপর আমি পেলাম জীবনের নতুন অর্থ, আর সে পেলো একজনকে মানুষ বানানোর ঠ্যাকা।

গল্পটা চলতে শুরু হলো- চলতে থাকলো ক্যাম্পাসের একটা টানা রাস্তা ধরে, একটা শহীদ মিনার সাথে তার কয়েক ধাপ সিঁড়িতে, গ্র্যান্ডে সকালের নাস্তায়, কলার ময়লা একটা শাদা শার্ট সাথে একটা গুটানো শাদা প্যান্ট আর তার উপর একটা কালো বেল্টে, শীত-কুয়াশা-ধুলোয় করা অ্যাসেম্বলিতে, রিভার্স করে গাওয়া শপথে, লম্বা করিডরের নামাঙ্কিত ক্লাস রুমগুলোতে, ফ্লোরময় ধূলোবালিতে, কয়েকটা ঘড়ির কাঁটার মতো ঘুরতে থাকা ধূলোজমা ফ্যানে, কয়েকটা ভাঙ্গা সুইচে, টিভিনের ভাগাভাগিতে, পুরোনো হোস্টেলের সামনের ঘাসে, মাঠের কখনোই শেষ না হওয়া একটা ক্রিকেট ম্যাচে, ভূতের বাড়ির গলি ঘুপচি তে, টিচার্স রুমের সামনে স্যারদের সাথে লুকোচুরিতে, ক্লাস মিস করে এক-দুই নম্বর রুমটাতে বসে হেড-টেল খেলায়, ধরা খেলে এই স্যার-ঐই স্যারের ডাকসে বলে তাদের নাম বেঁচে দেওয়া, রাজমহলের দশ টাকার চায়ে, ক্লাস শেষে স্যারদের বাসায়, গুপ্তাংকের গলিটায় বা ফ্ল্যাটের তিনতালা বিল্ডিংটার নিচতলার একটা রুমে, অমুক-তমুকের সাথে এই-সেই, তা শেষে বালুর মাঠের ব্যাট-বলে, মসজিদ মার্কেটের বইয়ের দোকানে। আর, আর ব্রেকে সাইকেল স্ট্যান্ডে একটা প্রাণবন্ত আড্ডায়।

হাজারো গল্প শুরু হলো, এরপর অনেক গল্প ফুরালো। কিছু গল্প অপূর্ণ রয়ে গেলো। আমি বেরিয়ে যেতে না চাইলেও, সে আমাকে মানুশ করেছে এই মর্মে জোর করে একটা কাগজে "সম্মানের সাথে পাস করা ভালো ছেলে" লিখে বের করে দিলো।

ধন্যবাদ জিলা স্কুল- ৬ বছরের জীবনের জন্যে। সম্ভবত আমার জীবনের শ্রেষ্ঠতম ভালোবাসা।

ভালোবাসাটা বেঁচে থাক প্রেমিকার মতো করে... শুভ্রতার দেয়ালে, শাদা শার্টে লাল রঙের ইটে; হাত থেকে হাতে ঘুরতে থাকা টিফিনে...




Enjoy Reading This Article?

Here are some more articles you might like to read next:

  • Welcome 2026 ✨
  • Life!
  • Happy Birthday Leo! 🖤
  • শুভ জন্মদিন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ 🖤
  • Appreciation!