আহা জীবন!
কিছুই জমতেছে না... এপর্যায়ে সত্যি সত্যি মনে হইতাসে যে বোধ হয় এইটাই শেষ... এইভাবে চলা সম্ভবই না! ভেঙ্গে পড়তেসি না আসলে, অনেক কিছু নিয়াই আফসোস হইতাসে। অনেক সাকসেস, খুব পশ লাইফ লিড করা... এইসব কখনোই চাই নাই। অন-এভারেজ টাইপ চললেই হইলো এইরম একটা কনসেপ্ট মাথায় থাকতো সবসময়, ভালো হওয়ার চিন্তাটা থাকতো না। কিন্তু এখন মনে হইতাসে চাইলেই হয়তো ভালো মানুশ হওয়ার চেষ্টা করতে পারতাম, করি নাই। চাইলেই হয়তো সবকিছু নিয়া আরেকটু স্ট্যাবল থাকতে পারতাম, কাছের মানুশগুলার সাথে কমিউনিকেশন গ্যাপটা এতোটা না বাড়ালেও হয়তো চলতো। এইসব নিয়া আফসোস হইতাসে, ভালো হওয়ার ফিলিংস আসতাসে। মৃত্যু নিয়া খুব একটা প্যারা নাই আমার... আমার পাপের বোঝা টা একটু বড়, আমি ভয় পাই এর পরের পার্টটা নিয়া। মরে গেলে... যারা আমার পেছনে এতোদিন কন্টিনিউয়াসলি এফোর্ট দিয়া আসছে, সামনে যাওয়ার জন্য পুশ করসে... তাদের জন্য কিছু করতে না পারার দুঃখটা সবচেয়ে বেশী থাকবে। তাদের জন্য হলেও আরো কিছুদিন বেঁচে থাকতে ইচ্ছে করতেসে। জানি না সেইটা হবে কিনা। তবে এইটা বিশ্বাস করি, এতো সব মৃত্যু, হেলথ সিস্টেম ব্রেকডাউন, এটা-সেটা... সবকিছু একদিন শেষ হবে। এক সকালে এই আউটব্রেক শেষে আবারও পৃথিবী ঘুরে দাঁড়াবে।
ততদিন বেঁচে থাকলে... সেই সকালে ঘুম থেকে উঠে প্রতিদিনের পরিচিত সূর্যটাকে ভীষণ কাছের কেউ বলে মনে হবে। জীবন আবার ঠিক হবে, আবার সব স্বাভাবিক হবে। সবাই ঘর থেকে বের হবে, শহরটা জমতে শুরু করবে। আবার সেই আটটা-পাঁচটার লাইফটাতে অভ্যস্ত হয়ে যাবে, লাল বাসে চড়ে ক্যাম্পাসে যাবে। সেই সময়টায় আর কিছু থাকুক বা না থাকুক... কোনমতে হলেও জীবনধারণের একটা অবলম্বন থাকুক, অত পশ লাইফ লিড করা না হোক! পার্ক ক্যান্টিনের চায়ে চিনিটা একটু বেশীই থাকুক, সন্ধ্যার পর সুপার মার্কেট ঘিরে ভীড় জমুক। যতোই ক্লান্তি আসুক, এই জীবন ফিরে পাওয়ার আনন্দটা তার থেকে কয়েকগুণ বেশী থাকুক! ততদিন প্রার্থনা একটাই, সুন্দর সেই সকালটার আগে এই কালো সময়গুলোতে আর কারো প্রিয়জন না হারাক।
সবাই অপেক্ষায় থাকুক এমন একটা জীবনের... যে জীবন দোয়েলের, ফড়িংয়ের! আহারে জীবন... আহা জীবন! আগুনের দিন শেষ হবে একদিন! ;')
Enjoy Reading This Article?
Here are some more articles you might like to read next: